দুবাইয়ের আকাশে উড়বে উবারের বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল গতিতে উড়েছেন যুদ্ধবিমান চালিয়ে। তবে এবার সাবেক মার্কিন ফাইটার পাইলট ডেভিড ‘স্কিটলস’ অ্যাশের বাহন অনেকটাই শান্ত—উবারের নতুন বৈদ্যুতিক উড়ন্ত ট্যাক্সি।
দুবাইয়ের মরুভূমির একটি হ্যাঙ্গারে পরীক্ষামূলক এই উড়ন্ত ট্যাক্সির প্রদর্শন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান উবার সড়ক পরিবহনের পাশাপাশি এবার আকাশপথেও যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা করছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে উড়ন্ত ট্যাক্সি চালু হতে পারে। একসঙ্গে চারজন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এই উড়োজাহাজ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ মাইল গতিতে চলবে। নির্দিষ্ট ‘ভার্টিপোর্ট’ থেকে যাত্রী ওঠানামা করবে। উবারের দাবি, এর ভাড়া তাদের প্রিমিয়াম গাড়ি ‘উবার ব্ল্যাক’-এ যাতায়াতের খরচের কাছাকাছি রাখা হবে।
দুবাই বিমানবন্দর থেকে বিলাসবহুল হোটেলসমৃদ্ধ পাম জুমেইরায় সড়কপথে যেতে যেখানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতে পারে, সেখানে উড়ন্ত ট্যাক্সিতে সময় লাগবে মাত্র ১১ মিনিট।
ডেভিড অ্যাশ বলেন, তিনি ক্যারিয়ারে ৫০টিরও বেশি ধরনের উড়োজাহাজ চালিয়েছেন। তার কাছে ভালো উড়োজাহাজের বৈশিষ্ট্য হলো, সেটিতে চড়ার পর মনে হবে এটি শরীরের স্বাভাবিক অনুভূতিরই অংশ। নতুন বৈদ্যুতিক ট্যাক্সিকে তিনি ‘সেলাই করা পোশাক বা হাতে ঠিকমতো বসা গ্লাভসের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
তবে সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে এখনো উড়তে পারছে না উড়োজাহাজটি। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ জোবি এভিয়েশনের তৈরি এই উড়ন্ত ট্যাক্সি এখনো যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পায়নি।
পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে দেখা যায়, ছয়টি প্রপেলার ঘুরতে শুরু করার পর উড়োজাহাজটি প্রায় ২০ ফুট ওপরে ওঠে এবং দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ঘণ্টায় প্রায় ৮০ মাইল গতিতে পৌঁছালে প্রপেলারগুলো হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্ব অবস্থান থেকে ঘুরে সামনের দিকে চলে আসে। এরপর এটি বিমানের মতো ‘ক্রুজ মোডে’ উড়ে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উড়ন্ত ট্যাক্সিগুলো মাটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ফুট উচ্চতায় চলাচল করবে। চারটি উচ্চ-ভোল্টেজ ব্যাটারি একবার চার্জে প্রায় ১০০ মাইল পর্যন্ত উড়তে সক্ষম হবে। তবে মূল লক্ষ্য হবে শহরের স্বল্প দূরত্বের যাত্রা, দ্রুত চার্জ ও দ্রুত যাত্রী ওঠানামা।
জোবির কর্মকর্তাদের দাবি, প্রচলিত হেলিকপ্টারের তুলনায় উড়ন্ত ট্যাক্সিটি প্রায় ১০০ গুণ বেশি শান্ত। ভেতরে থাকবে প্রশস্ত জানালা ও বিলাসবহুল গাড়ির মতো আরামদায়ক আসন।
প্রথম পর্যায়ে দুবাইয়ের চারটি ভার্টিপোর্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেরিনা ও ডাউনটাউন এলাকা। ভবিষ্যতে গাড়ি পার্কিং এলাকা ও ভবনের ছাদেও অবতরণকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
উবারের অ্যাপে ‘Uber Air’ অপশন ব্যবহার করেই যাত্রীরা এই সেবা নিতে পারবেন। তবে ভার্টিপোর্টের সংখ্যা পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উবার গাড়ির মাধ্যমে যাত্রীদের ভার্টিপোর্টে পৌঁছে দেওয়া এবং গন্তব্যে অবতরণের পর আবার গাড়িতে করে হোটেল বা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
দুবাইয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক ও লন্ডনেও এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উবারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো একসময় চালক বা পাইলট ছাড়াই এসব উড়ন্ত ট্যাক্সি পরিচালনা করা।
তবে সাবেক ফাইটার পাইলট অ্যাশের মতে, পাইলটবিহীন উড্ডয়নের প্রযুক্তি এলেও আরও অনেক বছর পাইলটদের প্রয়োজন থাকবে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন