২৩ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরল বিপজ্জনক রাসায়নিক
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩ বছর ধরে পড়ে থাকা দাহ্য রাসায়নিক থিনারের একটি কনটেইনার অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার কনটেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাঠানো হয়। সেখানে পরিবেশসম্মত প্রক্রিয়ায় রাসায়নিকটি ধ্বংস করা হবে।
শুধু পুরোনো ওই কনটেইনার নয়, একই দিন আরও আট কনটেইনার বিপজ্জনক রাসায়নিক বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মোট নয়টি কনটেইনারে রয়েছে প্রায় ১৫১ টন থিনার, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড ও মিথানল।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিকের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো চালানটি আসে ২০০৩ সালে। দুটি কনটেইনারে থাকা ৩২ দশমিক ৩০ টন থিনারের একটি ওই বছর আমদানি করা হয়েছিল। অন্য কনটেইনারটি আসে ২০১৬ সালে।
এ ছাড়া প্রায় ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি কনটেইনার বন্দরে আসে ২০১৪ সালে। ২০১৬ সালে আমদানি করা হয় প্রায় ২৬ টন সালফিউরিক অ্যাসিড। আর পাঁচটি কনটেইনারে থাকা প্রায় ৯৩ টন মিথানল আসে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে।
অর্থাৎ ধ্বংসের জন্য সরিয়ে নেওয়া রাসায়নিকগুলোর কোনোটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে বন্দরে পড়ে ছিল, আবার কোনোটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়।
রূপগঞ্জে হবে ধ্বংস
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে রাসায়নিকবাহী যানগুলো বন্দর এলাকা ত্যাগ করে। বিপজ্জনক রাসায়নিক পরিবহনের কারণে বহরের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তাও রাখা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় এসব রাসায়নিক পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে।
রাসায়নিকগুলো বন্দর থেকে সরানো ও ধ্বংসের পুরো কার্যক্রমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১২টি সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এসব সংস্থা নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
রাসায়নিক ধ্বংসের দায়িত্ব নিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এবং এ কাজের জন্য কোনো অর্থ নেবে না বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ঝুঁকি
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বিপজ্জনক রাসায়নিক দীর্ঘ সময় বন্দরে পড়ে থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি এসব কনটেইনার বন্দরের মূল্যবান জায়গাও দখল করে রাখে।
এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিক শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে বন্দর থেকে সরিয়ে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন