|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

শিক্ষায় বিনিয়োগ ও শিক্ষক সংকটে ফ্রান্সে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
৮৫ পঠিত
00:00
00:00
শিক্ষায় বিনিয়োগ ও শিক্ষক সংকটে ফ্রান্সে বিক্ষোভ
অবেরভিলিয়ের লিসে বের্তেলোর কাছে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামতে দেখা যায়। ছবি/ বিবিসি

শিক্ষায় আরও বিনিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ডাকে দেশব্যাপী কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গত এক সপ্তাহের বিক্ষোভে দেশটির শত শত স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেছে। এ সময় অন্তত ১৯০ জন শিক্ষার্থী আহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে গত সপ্তাহে আরেক শিক্ষার্থী মাথায় কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। তবে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেন (USL) বলেছে, সরকার এখন পর্যন্ত ‘কোনো বাস্তব পদক্ষেপ’ নেয়নি।

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও আন্দোলনের ওপর ‘নজিরবিহীন দমন-পীড়নের’ বিরুদ্ধে তাদের এই мобিলাইজেশন।

শিক্ষকদের সংগঠন SNES-FSU-ও কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটি তাদের সদস্যদের মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বামপন্থি দল লা ফ্রান্স ইনসুমিজের (LFI) নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ চলমান আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর দেশটির ‘সবচেয়ে শক্তিশালী উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সেপ্টেম্বরে প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। শুরুতে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও পরে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হন।

রোববার প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কর্মীদের সমস্যার সমাধানে কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। তিনি স্কুলগুলোতে ‘দৃশ্যমান পরিবর্তনের’ প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে সহিংসতার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান।

বিক্ষোভের মধ্যে শুধু স্কুল অবরোধ নয়, বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সাঁ-ওয়েন-লোমোন এলাকায় ১৪ বছর বয়সী ইডেন নামের এক শিক্ষার্থী মাথায় কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়। তার চোয়ালে দুটি জায়গায় ফাটল ধরেছে এবং বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর সহিংসতার ঘটনায় ৫ হাজার ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ৮৭ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। এদের মধ্যে ১৪ জনকে বিচারপূর্ব আটক রাখা হয়েছে এবং ১ হাজার ৮০২ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

USL পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ দাবি করেছেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ‘অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ’ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

এদিকে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও কয়েক মাস দূরে থাকলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সরকার ও ডানপন্থি রাজনীতিকরা বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য কট্টর বামপন্থীদের দায়ী করছেন। অন্যদিকে মেলঁশোঁ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তরুণদের বিক্ষোভ রক্ষায় রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

মারসেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়াঁও শহরে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা করেছেন। তার মতে, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও সরকারি সেবা নিয়ে উদ্বেগ যৌক্তিক হলেও তাদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করা উচিত। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →