|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

কক্সবাজার রিসোর্টে মৃত্যু: ওসির বিরুদ্ধে আদালতের শোকজ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
১০১ পঠিত
00:00
00:00
কক্সবাজার রিসোর্টে মৃত্যু: ওসির বিরুদ্ধে আদালতের শোকজ

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত কাঠের তৈরি ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর মামলায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানকে আদালতে তলব করা হয়েছে। মামলার এজাহারে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত না করে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার ঘটনায় বিচারক এই নির্দেশনা দিয়েছেন। টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় তিনিও মর্মাহত বলে জানান। আদালতের আদেশে বলা হয়, ১৭ অক্টোবর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মামলার রেকর্ডিং কর্মকর্তা হিসেবে ওসি আতিকুর রহমান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এজাহার রেকর্ডের সময় ৩০৪ ধারা সংযোজন করেননি। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রিসোর্টের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছাড়াই রিসোর্টটি পরিচালনা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। ‘বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি, রিসোর্টটি দাউ দাউ করে জ্বলছে’।

কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এক আদেশে ওসি আতিকুর রহমানকে আগামী ২৯ অক্টোবর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২১৮ ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা ও বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হবে না, সেই ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে আদালতের আদেশে।

১৭ অক্টোবর সকালে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই রিসোর্টের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমন পথ (ফায়ার এক্সিট) না থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও রিসোর্ট মালিকেরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে আগুনে দগ্ধ পর্যটকেরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েন এবং বের হতে না পেরে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটি দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১০ জন মানুষের প্রাণহানির মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার পরিবর্তে জামিনযোগ্য ৩০৪-ক ধারায় মামলা রেকর্ড করে আসামিদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ৩০৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও ৩০৪-ক ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। আদালত মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে এই ধারা এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আসামিদের বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে আড়ালের চেষ্টা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ১৯ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর মধ্যে নাম উল্লেখ করা চারজন হলেন রিসোর্টের মালিক চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মো. তানভীর সুলতান মিয়া, প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাইদ এবং সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার চার নম্বর আসামি জাহিদ হোসেনকে ১৮ অক্টোবর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁর রিমান্ডের আবেদনের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে আদালত। এতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে নাম থাকা চার আসামি হলেন রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮), প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার মোহাম্ম। মামলার এজাহারে নাম থাকা চার আসামি হলেন রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮), প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ সাইদ (৩০) এবং সহকারী ব্যবস্থাপক। 38, 32, 30, 29.

ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার মূল মালিকসহ তিন আসামি এখনো ধরা পড়েননি। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম ভুলবশত এজাহারে না আসায় তা যুক্ত করার জন্য আলাদা আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আতিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, আগুন লাগার পর ব্যস্ততার কারণে এজাহারে ৩০৪ ধারা বাদ পড়েছিল। আদালতের নোটিশ পেলে তিনি সশরীরে হাজির হয়ে তার ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন বলে জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি আদালতের নোটিশ পাননি। ‘আমার তিন বোনের পাঁচ–ছেলে মেয়ে মারা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল’।

কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাজান এলাহী নূরী জানিয়েছেন, আদালতের তলব আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ ৯৯৯-এর কলের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল সম্পন্ন করে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং ২৯ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ। সকাল সোয়া নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →