|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

পাঠ্যবইয়ের বিতর্কিত ছবি: এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:০২ এএম
১৩১ পঠিত
00:00
00:00
পাঠ্যবইয়ের বিতর্কিত ছবি: এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে হাতে আর মাত্র দুই মাস সময় বাকি। এর মধ্যেই পাঠ্যবই নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের জটিলতা। বিভিন্ন বিতর্কিত ছবি ব্যবহারের কারণে বিতরণ করা প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংশোধনের পর পুনরায় মুদ্রণ করে এসব বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাঠ্যপুস্তকের ছবি ও নকশা নিয়ে উদ্ভূত অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নয়জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। এর আগের দিন আরও একজনকে বদলি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় সোমবার এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)।

বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের পেছনে এই বিশাল অর্থ ব্যয়ের কারণ মূলত রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয়। আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যদিও ২০২৫ সালের বইয়ে দাঁড়িপাল্লা ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালে সেটির বদলে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি দেয়া হয়েছিল। ২০২৭ সালের বইয়ে পুনরায় দাঁড়িপাল্লা ফিরে এলে তা বিতর্কের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে এনসিটিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নামে কোনো আইকন বা প্রতীক রাখা হবে না। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার পুরনো নকশায় ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ফিরে আসে। ‘দাঁড়িপাল্লা’ একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এসব ছবি নিয়ে আপত্তি উঠলেও এগুলো ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। বিতর্কের পর এনসিটিবি প্রথমে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

পাঠ্যবইয়ে শুধু দাঁড়িপাল্লাই নয়, প্রাথমিক স্তরের বইয়ে ‘নৌকা’র ছবি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সূত্রমতে, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ছবি আগের দুই শিক্ষাবর্ষেও ছিল। বিতর্কের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় ঐদিন অপরাহ্নেই তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

বদলির শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য। এর আগে রবিবার ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বোর্ডের ভেতরে চলছে চাপা উত্তেজনা। অনেক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, নৌকার ছবি ব্যবহারের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে কেন বদলি করা হয়নি? তারা দাবি করছেন, বিতর্কিত বিশেষজ্ঞদের অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

পুরো বিষয়টি সম্পর্কে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, বদলির সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত। এতে তার কোনো ভূমিকা নেই এবং কর্মকর্তাদের কেন বদলি করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে জানান। পাঠ্যবইয়ের সংশোধন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা এখন বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →