|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ইয়ন সাং-হোর নতুন ছবিতে দলবদ্ধ জম্বিদের আক্রমণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
১২২ পঠিত
00:00
00:00
ইয়ন সাং-হোর নতুন ছবিতে দলবদ্ধ জম্বিদের আক্রমণ

‘ট্রেন টু বুসান’ খ্যাত নির্মাতা ইয়ন সাং-হোর নতুন চলচ্চিত্র ‘কলোনি’ জম্বি ঘরানার ছবিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে জম্বিরা কেবল মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং একে অপরের কাছ থেকে নতুন কৌশল শিখে তা প্রয়োগ করতে পারে। তবে এই উদ্ভাবনী ভাবনা এবং দ্রুতগতির অ্যাকশন থাকা সত্ত্বেও, চরিত্রগুলোর গভীরতা ও গল্পের বুননে কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে। জম্বি সিনেমা দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের পরিচিত উপাদানে তৈরি হয়ে আসলেও, এই ছবি দর্শকের মনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। অভিনব এই ভাবনা আর রক্তাক্ত অ্যাকশন ছবিটিকে উপভোগ্য করেছে, যদিও গল্প ও চরিত্রের গভীরতায় ঘাটতি রয়ে গেছে। মৃত মানুষের ফিরে আসা, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, চারপাশে আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার জন্য মুষ্টিমেয় মানুষের লড়াই—এসব পরিচিত উপাদান দিয়েই বছরের পর বছর তৈরি হয়েছে এন্তার ছবি। ফলে মানুষের কোনো ফাঁদ বা দুর্বলতা একবার প্রকাশ হয়ে গেলে একই কৌশলে বারবার তাদের ঠেকানো যায় না।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিউলের একটি বহুতল ভবন, যেখানে একটি জৈবপ্রযুক্তি সম্মেলন চলছিল। প্রতিষ্ঠানটি এমন এক ছত্রাক নিয়ে গবেষণা করছে, যা মৃত কোষকে পুনরায় জীবিত করতে এবং তথ্যের আদান-প্রদান করতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কর্মী সিও ইয়ং-চল (কু কিও-হোয়ান) নিজের প্রতি অবিচারের প্রতিশোধ নিতে প্রধানকে সংক্রামক দিয়ে আক্রান্ত করলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেহনিঃসৃত তরল ও কামড়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের কবলে পড়ে ভবনটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। গবেষণার কৃতিত্ব ও নিজের প্রতি অবিচারের অভিযোগ থেকে তার ক্ষোভের জন্ম। সংক্রমিত মানুষ পরিণত হয় বিকৃত শরীরের হিংস্র প্রাণীতে, যাদের কামড় ও দেহনিঃসৃত তরলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। নিরাপদে বেরিয়ে আসতে হলে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করতেই হবে।

উদ্ধারকাজ শুরু হতে দেরি হওয়ায় ভবনের ভেতর আটকা পড়া মানুষদের নিজেদের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হয়। বিজ্ঞানী কওন সে-জং (জুন জি-হিউন), তার সাবেক স্বামী হান কিয়ো-সং (গো সু) এবং নিরাপত্তাকর্মী হিউন-সক (জি চ্যাং-উক) ও তার বোন হিউন-হির (কিম শিন-রক) মতো নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বিপদের মুখে পড়ে। তাদের সামনে একদিকে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যকার অবিশ্বাসের দেয়াল।

ছবিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো আক্রান্তদের দলগত বুদ্ধিমত্তা। সাধারণ জম্বি সিনেমায় ক্ষুধার তাড়না থাকলেও, এখানে একজন জম্বির শেখা কৌশল মুহূর্তেই পুরো দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মানুষ তাদের কোনো ফাঁদে ফেলতে চাইলে তারা সহজেই তা বুঝতে পারে। প্রাণীদের দলগত আচরণের অনুকরণে তৈরি এই জম্বিরা যেন একটি বিশাল মস্তিষ্কের অংশ, যারা একে অপরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে মেকআপের চেয়ে শরীরী অঙ্গভঙ্গির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন নির্মাতা। নৃত্যশিল্পী ও শরীর বাঁকাতে পারদর্শী কুশলীদের ব্যবহার করায় জম্বিদের নড়াচড়া বেশ অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। তাদের হামাগুড়ি দেওয়া, দেয়াল বেয়ে ওঠা কিংবা জীবন্ত দেহের স্তূপ তৈরির দৃশ্যগুলো বেশ অস্বস্তিকর। ভবনের প্রতিটি স্থান যেমন—অফিস, লিফট, বেজমেন্ট ও করিডর—নির্ভুলভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি দৃশ্যে টানটান উত্তেজনা বজায় রাখা হয়েছে। তবে এবারের জম্বিদের বিশেষত্ব, তারা শুধু হিংস্র নয়, দলবদ্ধভাবে চিন্তা করতেও সক্ষম।

তবে বিপদের মুহূর্তে মানুষের নৈতিকতা ও ব্যক্তিস্বার্থের বিষয়টি ইয়ন সাং-হোর আগের ছবির মতোই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। সিও ইয়ং-চলের চরিত্রটি মানুষের সংঘাত ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অভাবকে তুলে ধরে। যদিও এই গভীর দার্শনিক দিকগুলো গল্পের বুননে পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। প্রযুক্তি ও নজরদারির মতো বড় বিষয়গুলো উঁকি দিলেও তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পায়নি চিত্রনাট্য।

জুন জি-হিউনের অভিনীত বিজ্ঞানী কওন সে-জং চরিত্রটি বুদ্ধিমান ও কিছুটা খাপছাড়া, যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। অন্যদিকে কু কিও-হোয়ান তার অভিনয়ে প্রতিশোধের আগুন ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া হিউন-সক ও তার হুইলচেয়ারে থাকা বোনের পারস্পরিক নির্ভরতা মানবিক আবেগের জায়গাটি ধরে রেখেছে। তবে অধিকাংশ পার্শ্বচরিত্রের গভীরতা তেমনভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

দুই ঘণ্টার বেশি দীর্ঘ এই সিনেমার গতি সব সময় সমান থাকে না। মাঝে মাঝে চরিত্রদের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক মনে হতে পারে, আবার একই ধরনের বিপদের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ২০১৬ সালের আলোচিত ‘ট্রেন টু বুসান’ ছবির মতো প্রতিটি মুহূর্তের তীব্রতা এখানে ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকেনি।

সব মিলিয়ে ‘কলোনি’ কোনো বৈপ্লবিক জম্বি সিনেমা না হলেও প্রচলিত ধারায় কিছু নতুন ও কার্যকর কৌশল যোগ করে দর্শককে বিনোদন দিতে সক্ষম হয়েছে। এটি জম্বি সিনেমার ভক্তদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →