|
|
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

দেশে নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ এএম
২৯ পঠিত
00:00
00:00
দেশে নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

দেশের কৃষি খাতে সার সংকট দূর করতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতায় ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বার্ষিক সার উৎপাদন ক্ষমতা ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসতে পারে।

বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদিত হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে ৭ লাখ ৫০ হাজার ও ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি।

একই অর্থবছরে টিএসপি ও ডিএপি সারের বিশাল চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল অত্যন্ত সীমিত—টিএসপি মাত্র ৯ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ডিএপি ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ফলে চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে, যার জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়ায় ২৩ হাজার টাকা, টিএসপিতে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপিতে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের একটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রকল্প সফল করতে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে এই কারখানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে এর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপি কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন একটি টিএসপি কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিআইসির বর্তমান টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও কারিগরি জটিলতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন এই কারখানা চালু হলে স্থানীয়ভাবে টিএসপি সারের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপন করা গেলে টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা উল্লেখ করেন যে, বিদ্যমান কারখানার খালি জায়গা ব্যবহার করে নতুন শিল্প গড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে।

এই তিনটি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিসিআইসি চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, নতুন কারখানাগুলোতে নির্মাণ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ শ্রমিকদের পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহ খাতেও কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন শিল্প অবকাঠামো গড়ে ওঠার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →