কে হচ্ছেন ২৪তম প্রধান বিচারপতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০২৩, ০৭:২৯ এএম
শুনুন
00:00
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় চলতি আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ প্রধান বিচারপতি হিসেবে শেষ বিচারিক কর্মদিবস পালন করবেন তিনি। বর্তমান প্রধান বিচারপতির অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় আইনাঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি?
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ছাড়া বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা অনুসারে তারা হলেন- বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম।
তবে তাদের মধ্যে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতির পর জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়েও তিনি সবার ওপরে। তার রয়েছে বর্ণাঢ্য বিচারিক ক্যারিয়ার। বর্তমানে আপিল বিভাগের ২ নম্বর বেঞ্চে তার নেতৃত্বে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটির সুপারিশের আলোকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নাম চূড়ান্ত। তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। তবে সরকার বা রাষ্ট্রপতি চাইলে আপিল বিভাগের যেকোনো বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ দান করিবেন।
সংবিধানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে ওই বিচারপতির ব্যাপারে ফাইল প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের গেজেট জারি করবে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রধান বিচারপতির নিয়োগ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে ফাইল চূড়ান্ত করে সরকারপ্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন। সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি অ্যাটর্নি জেনারেল।
সংবিধান কী বলে
সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলে রাষ্ট্রপতির কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে ক্ষেত্র মতে অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করবেন।’
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ-সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারক নিয়োগ দেবেন।
একনজরে বর্তমানে আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতি
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস, এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৮৬ সালে জেলা আদালত, ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এই বিচারপতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এরও চেয়ারম্যান ছিলেন।
বিচারপতি বোরহান উদ্দিন : বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন।১৯৮৮ সালের ১৬ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন। ২০০২ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হন। বোরহান উদ্দিন ২০০৮ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর স্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম : বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ১৯৮৬ সালের ১০ অক্টোবর অধস্তন আদালতে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। ১৯৮৯ সালের ২ জানুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০২ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০১১ সালের ৬ জুন এই বিভাগে তিনি স্থায়ী নিয়োগ পান। ২০১৪ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে হাইকোর্টে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম : বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালত ও ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরে ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী : বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতে এবং ১৯৯৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পরে ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পর ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন : বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালের ৩১ অক্টোবর জেলা আদালত এবং ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরে ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পর ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।