|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

হোয়াইক্যং সীমান্তে মাইন আতঙ্ক: বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বিস্ফোরণ

মাইন আতঙ্ক: সীমান্ত এলাকায় ঘর ছাড়ছে বাসিন্দারা

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
১০ পঠিত
00:00
00:00
হোয়াইক্যং সীমান্তে মাইন আতঙ্ক: বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বিস্ফোরণ
ছবি: সংগ্রহীত


মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সীমান্ত এলাকায় এর আগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও, বাংলাদেশের ভেতরে এমন ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আহত যুবকের নাম মো. হানিফ (২৮)। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লাম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা। ১২ জানুয়ারি সকালে নাফ নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের কাছে বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের ফলে তার একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করে স্থলমাইন পুঁতে রেখে গেছে। তাদের দাবি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তোতার দ্বীপ এলাকায় আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী দিলদার মিয়া জানান, ১১ জানুয়ারি গভীর রাত থেকে ওই এলাকায় গোলাগুলি, বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলা চলতে থাকে। পরদিন সকালে পরিস্থিতি শান্ত মনে করে তিনি, হানিফ এবং আরেকজন নাফ নদীর দিকে যান নিজেদের নৌকা ও মাছ ধরার জাল দেখতে। লাম্বাবিল এলাকার বেড়িবাঁধ পার হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে যাওয়ার পর হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর তারা আশপাশে আরও কয়েকটি ছোট আকারের স্থলমাইন দেখতে পান, যেগুলো মাটির অল্প নিচে পুঁতে ঘাস ও ময়লা দিয়ে আড়াল করা ছিল। আতঙ্কের মধ্যেই তারা আহত হানিফকে উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরে আসেন।

হানিফের ভাই আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, ১২ জানুয়ারি আরাকান আর্মির সদস্যরা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধাওয়া করতে গিয়ে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত এসে গুলিবর্ষণ করে। ওই সময় একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। তার ধারণা, ফেরার সময় এসব সশস্ত্র সদস্যরা বাংলাদেশের ভেতরে একাধিক স্থলমাইন পুঁতে যায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল বলেন, বিস্ফোরণের স্থানটি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সেখানে আরও মাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো এলাকার মানুষের জীবনযাত্রাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একই এলাকায় একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা মাইন পোঁতার অভিযোগ শুনেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৬৫ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

সীমান্তের এই নতুন বাস্তবতায় নাফ নদী নির্ভর হাজারো জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →