নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ মিশন
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছে না। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা জারির প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছে মিশনটি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে। তিনি বলেন, “নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ নেই। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
ইন্তা লাসে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আইন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করাই এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য।
এর এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে ইইউ মিশন। সে সময় তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস তখন অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের ব্যাখ্যায় বলেন, সমাজের সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের দৃষ্টিতে অন্তর্ভুক্তির মূল অর্থ। বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কতটা সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করছেন।
২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও অংশ নিচ্ছেন। মোট প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।
মিশনের কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের একটি কোর টিম বিশ্লেষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক কাজ করছেন। ভোটের ঠিক আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইন্তা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মিশনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের ভিত্তি তৈরি করবে।
তিনি জানান, এসব পর্যবেক্ষক দুই সদস্যের দলে কাজ করবেন। তারা ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক পর্যবেক্ষক এবং তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও তাদের কার্যক্রম চলবে।
ইন্তা লাসে আরও বলেন, মাঠে নামার আগে পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন