|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তে সাংবিধানিক ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
৫ পঠিত
00:00
00:00
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তে সাংবিধানিক ঝুঁকি

 

দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ না করেই কেবল ত্যাগের আবেদনপত্র বা এফিডেভিটের ভিত্তিতে প্রার্থীদের মনোনয়ন ‘বৈধ’ ঘোষণা করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন সিদ্ধান্ত সুপ্রিমকোর্টে চ্যালেঞ্জযোগ্য বলেও মত দিয়েছেন আইনজ্ঞরা।

এই প্রেক্ষাপটে রোববার (১৮ জানুয়ারি) ভোটার মো. মামুন হাওলাদার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দপ্তরে লিখিত আবেদন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ জানান, সংবিধান ও সুপ্রিমকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকজন দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীর মনোনয়ন কেবল নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন বা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে বহাল রাখা হয়েছে, যা গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৬৬(২)(গ) ও ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ না দেওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে পারেন না। অথচ নির্বাচন কমিশন সাম্প্রতিক সময়ে এই বিধান উপেক্ষা করে মনোনয়ন অনুমোদন দিচ্ছে।

এতে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলার (নং ১৬৪৬৩/২০২৩) আদেশ উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে—নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এই আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে।

অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, আপিল শুনানিতে এফিডেভিট গ্রহণ করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে। সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ঊর্ধ্বে কমিশন অবস্থান নিতে পারে না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার শামিল।

এদিকে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কিছু প্রার্থী আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রে ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন প্রক্রিয়াধীন’ উল্লেখ করে মনোনয়ন বৈধ করার চেষ্টা করছেন। অথচ নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত ও দাপ্তরিক প্রমাণ দাখিল বাধ্যতামূলক।

আইনজ্ঞদের মতে, কেবল আবেদন নয়—বিদেশি সরকারের ইস্যুকৃত চূড়ান্ত ত্যাগপত্র বা সনদ বাধ্যতামূলক না করা হলে এ সংকটের নিরসন সম্ভব হবে না।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →