|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ইতালিতে পুলিশের হাতে মরক্কোর নাগরিকের মৃত্যু, তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ এএম
১১ পঠিত
00:00
00:00
ইতালিতে পুলিশের হাতে মরক্কোর নাগরিকের মৃত্যু, তীব্র বিতর্ক
বোলোনিয়ায় আবদেররহিম ফাকিরের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইতালির বোলোনিয়ায় পুলিশের হেফাজতে ৪২ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক আবদেররহিম ফাকিরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের হাতে আটকের সময় তার ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি দেশটির নতুন নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে।

ফাকির ছোট একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মরক্কোতে জন্ম হলেও শৈশব থেকেই ইতালিতে বসবাস করছিলেন তিনি। ১৯ জুলাই বোলোনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পিলাস্ত্রো এলাকায় পুলিশের সঙ্গে তার সংঘর্ষের দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে মাটিতে চেপে ধরে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করছেন। এ সময় জরুরি চিকিৎসাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে ছিলেন। ফাকিরকে বারবার সাহায্যের জন্য আবেদন করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি নড়াচড়া বন্ধ করে দেন।

ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ফুসফুসে চাপ পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

বোলোনিয়া থেকে রোমে বিক্ষোভ

ফাকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বোলোনিয়া ও রোমে বিক্ষোভ হয়। ঘটনাটি দেশটির ডানপন্থি সরকারের পুলিশ ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকারের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা আইনও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ফাকিরের ঘটনাটি এমন এক নতুন আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম প্রয়োগের ঘটনা, যার আওতায় দায়িত্ব পালনের সময় বা আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কাজ করেছেন—এমন প্রমাণ থাকলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বোলোনিয়ার প্রসিকিউটররা দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও চার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগের তদন্ত করছেন। তবে পুলিশের ব্যবহৃত বলপ্রয়োগকে অন্যায্য হিসেবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে না।

দুই পুলিশ কর্মকর্তার আইনজীবীরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, কর্মকর্তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, তারা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন।

নতুন আইনের সমালোচনা

নতুন আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থার সমালোচকরা বলছেন, এটি পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিচ্ছে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন করে তুলতে পারে।

ফাকির পরিবারের আইনজীবী ফাবিও আনসেলমো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই আইনি বিধান তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তার মতে, এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ফাকিরের পরিবারও আশঙ্কা করছে, রাজনৈতিক প্রভাব তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। পিলাস্ত্রো এলাকায় তার মৃত্যুর স্থানের কাছাকাছি ব্যানার ও দেয়ালে ফাকিরের জন্য সত্য ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল?

ফাকির কেন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন, তার পুরো বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সেখানে যায়। পরে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ডেকে জানানো হয়, ওই ব্যক্তি মানসিক সংকটে রয়েছেন।

ঘটনার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ভিডিওতেও ফাকিরকে প্রচণ্ড উত্তেজিত ও বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে জানা যায়, জুন মাসে তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ফাকিরের আইনজীবী বারবারা স্পিনেল্লি জানান, তিনি ইতালিতে ফাকিরের বসবাসের অনুমতিপত্র নবায়নের বিষয়ে সহযোগিতা করছিলেন। তার মাধ্যমে জানা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন প্রত্যাবাসন নীতির কারণে ফাকিরকে ইতালি থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি ব্যবসায় মন্দার কারণে কর্মীদের ছাঁটাই করতে হওয়ায় তিনি মানসিক চাপেও ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ‘আমরা শুধু সত্য ও বিচার চাই’

ফাকিরের বোন খাদিজা জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর ভিডিও তিনি নিজে দেখার সাহস পাননি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, মৃত্যুর আগে ফাকির সাহায্যের জন্য আবেদন করছিলেন।

তার প্রশ্ন, পরিস্থিতি শান্ত করার অন্য কোনো উপায় কেন নেওয়া হলো না এবং কেন শেষ পর্যন্ত ফাকিরকে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে প্রাণ হারাতে হলো।

আইনি ব্যয় মেটাতে পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও ওঠে। খাদিজা এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করে বলেন, অর্থ নয়, তাদের প্রধান দাবি সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার।

ফাকিরের পরিবার মরদেহ মরক্কোতে নিয়ে গিয়ে তার প্রয়াত মায়ের পাশে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অভিবাসন ও নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

ফাকিরের মৃত্যুকে ঘিরে ইতালির অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি রাজনীতির কিছু অংশ ফাকিরের অতীতের মাদকসংক্রান্ত মামলাকে সামনে এনে তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাকিরের ঘটনা ইতালির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নীতির বাস্তব প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা ও অভিবাসনকে রাজনৈতিক এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে। ফাকিরের মৃত্যু সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →