|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম মাসের বাড়তি বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
২৮ পঠিত
00:00
00:00
নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম মাসের বাড়তি বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘ ১১ বছর পর বাস্তবায়িত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী আজ ১ নভেম্বর রোববার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পাওয়া শুরু করেছেন। সকালে মুঠোফোনে বেতন পাওয়ার বার্তা আসার পর অনেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত অক্টোবর মাসের মূল বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া পাওনাও যুক্ত করা হয়েছে নতুন হিসাব অনুযায়ী। বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে তাঁদের মুঠোফোনে নতুন বেতনের হিসাবে টাকা পাওয়ার বার্তা এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক এই নতুন কাঠামোর আওতায় পড়ছেন। তবে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রায় এক লাখের মতো কর্মচারী আজ বেতন পাননি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাকিদের পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হলে তাঁরাও বকেয়াসহ বেতন পেয়ে যাবেন। যাঁদের পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হয়নি, তাঁরা আগামী ২–৩ দিনের পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।

নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কিছু কারিগরি জটিলতা ও অসংগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ বিষয়ে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেড বিন্যাসে অসংগতি তৈরি হয়েছে। বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলে পদোন্নতি পাওয়ার পরও অনেক কর্মীর মোট আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতনকাঠামোতে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে এখনো। ফলে কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যেখানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মীদের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত বেতন কার্যকর হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। তবে পুরো সুবিধা একবারে না দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে। সেটিই এত দিন সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ছিল।

নতুন প্রজ্ঞাপনের নিয়ম অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মীরা ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা পাচ্ছেন। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার হবে ৭৫ শতাংশ। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতন স্কেলের ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে। তবে অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত গত ৩০ জুন ২০২৬-এর বিদ্যমান হারে দেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে সর্বশেষ বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে, সে সময় সর্বোচ্চ গ্রেডে ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ মূল বেতন বাড়ানো হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →