বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ২৫ বোয়িং উড়োজাহাজ
নিউজ ডেস্ক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে পাঁচ মাসের ব্যবধানে বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে বোয়িংয়ের দুটি মডেলের বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বোয়িং ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়া কমিউনিকেশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে।
আগের চুক্তির উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমানের কাছে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এগুলো কিনতে মোট ব্যয় হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
নতুন করে কেনার ১১টি উড়োজাহাজের মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে বোয়িংয়ের পুরোনো তালিকামূল্য বিবেচনায় নিলে এসব উড়োজাহাজের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হতে পারে।
বিমান জানিয়েছে, ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনারগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদাসম্পন্ন রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার চালানো হতে পারে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গন্তব্যে। আর ৭৩৭-৮ ম্যাক্স দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রুট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বোয়িংয়ের দাবি, নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী। ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মূলত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে প্রশস্ত কাঠামোর ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে তুলনামূলক বেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব।
বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বর্তমান বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংস্থাটির দীর্ঘপথের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতাও বাড়বে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
বিমানের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িংয়ের এবং পাঁচটি ড্যাশ এইট কিউ৪০০ মডেলের স্বল্পপাল্লার উড়োজাহাজ।
২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেগুলো বিমানকে সরবরাহ করে বোয়িং।
বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৪টি বোয়িংয়ের মধ্যে রয়েছে চারটি প্রশস্ত কাঠামোর ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি ৭৮৭-৮, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭ উড়োজাহাজ। নতুন করে ২৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের মোট বহর দাঁড়াবে ৪৪টিতে। এর মধ্যে ৩৯টি হবে বোয়িংয়ের তৈরি।
গত ৩১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
এপ্রিলের চুক্তির পর নতুন করে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই চিঠিতে ভবিষ্যতে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
নতুন চুক্তির পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বোয়িং ও মার্কিন উৎপাদন খাতের জন্য দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বোয়িং এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের অভিনন্দন জানান।