সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ প্রবাসীর শেষ যাত্রা শনিবার
মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরি কারখানার অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের শারীরিক অবশেষ শনিবার সকালে দেশে পৌঁছাচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩ ৩৬ নম্বর ফ্লাইটে করে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৬) সকাল ৮টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চলতি বছরের ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলেই ১৬ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেন। দুর্ঘটনার পরপরই প্রথম পর্যায়ে ২৭ আগস্ট নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে দেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে বাকি সাতজনের শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। রিয়াদ থেকে বিমান যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এই প্রক্রিয়ায় বাড়তি জটিলতা দেখা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। অগ্নিকাণ্ডের পর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরতে প্রায় আড়াই মাসের বেশি সময় লেগেছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি বিমান চলাচল স্থগিত থাকায় প্রথমে সড়কপথে তাঁদের জেদ্দায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। শনাক্ত হওয়া সাত প্রবাসীর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলার মো. শাহিন, আত্রাই উপজেলার মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী রয়েছেন। বাকি দুজন হলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।
দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর স্বজনদের ফেরার খবর পেয়ে পরিবারগুলোতে বিষাদময় অপেক্ষার অবসান ঘটছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের স্বজন বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর প্রক্রিয়া ও যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এই পরিবহন নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের পাশাপাশি অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন