|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম
৬ পঠিত
00:00
00:00
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি
ছবি: সংগ্রহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই অধ্যাদেশে আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার জারি হওয়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’-এ বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সরকার প্রত্যয়ন দিলে সেগুলো আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো মামলা দায়েরও আইনত নিষিদ্ধ থাকবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকার যদি নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে হয়েছে, তাহলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবী সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করবেন। আবেদন জমা পড়ার পর আদালত ওই মামলার আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

তবে আন্দোলন চলাকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনে অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে এবং কমিশন তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সদস্য ছিলেন, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান কিংবা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। তদন্তের সময় আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো হত্যাকাণ্ড বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে তা আদালতে পাঠানো হবে এবং আদালত পুলিশ প্রতিবেদনের মতো করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। তবে যদি তদন্তে দেখা যায়, ওই হত্যাকাণ্ড ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তাহলে বিচার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আর কোনো মামলা বা আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ বলতে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংঘটিত কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারান। সরকার পতনের পর বিক্ষোভকারীদের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার বিচার চলবে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষার বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং তা ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →