প্রচারণায় বাধা ও হুমকির অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে: মান্না
নিউজ ডেস্ক
বগুড়া-২ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দাবি করেন, বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরাই তার প্রচারণায় এসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হতে চাওয়া মান্না বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় বগুড়ায় একটি ‘মব’ তৈরি করে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অথচ একই কাগজপত্রে ঢাকা-১৮ আসনে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মান্না আরও অভিযোগ করেন, অগাস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর শিবগঞ্জ এলাকায় মামলা বাণিজ্য শুরু হয়েছে। যারা তার পক্ষে কাজ করছেন, তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সরকারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে থাকা নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মান্নাকে শুরুতে বগুড়া-২ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান মীর শাহে আলম। তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
মান্না বর্তমানে কেটলি প্রতীক নিয়ে বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮—এই দুই আসনেই প্রার্থী।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব বলেন, মান্না নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছেন। জোটের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এসব অভিযোগ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে মান্না বলেন, শুরুতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে একই আসনে আরেকজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এখন সেই প্রার্থীর সমর্থকরাই তার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নারী কর্মীরা প্রচারে নামলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নির্বাচনের মাঠে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মান্না বলেন, তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রচারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ কোনো অভিযোগ পায়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মান্নার ভাই মুশফিকুর রহমান আন্না, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা কমিটির সমন্বয়ক রাজিয়া সুলতানা ইভা, সদস্য মশিউর রহমান পিয়াল এবং নাগরিক পার্টি শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সরকার।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন