বাঁশখালীতে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্র, ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান
মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্র মো. আনিসুর রহমান ও মোহাম্মদ আবু রায়হানের সন্ধান পাঁচ দিনেও মেলেনি। অষ্টম শ্রেণির এই দুই শিক্ষার্থী পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মোহাম্মদ রিয়াদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছে। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ আনিসুর ছনুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তোতকখালী এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে এবং আবদুর রশিদের ছেলে আবু রায়হান। কোথায় আছে, কার কাছে আছে, কেমন আছে—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই দিশেহারা স্বজনেরা।
নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সন্তানদের উদ্ধারে পুলিশের যে ধরনের তৎপরতা ও আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন, তা দেখা যাচ্ছে না। আবু রায়হানের বাবা আবদুর রশিদের ভাষ্যমতে, কিছুদিন আগে প্রেমবাজার থেকে এক ব্যবসায়ী অপহৃত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে তাকে উদ্ধার করেছিল। তারা অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তার ধারণা।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্তে কাজ করছেন এসআই হাক্কানী বিল্লাহ। তিনি বর্তমানে পুকুরিয়া এলাকায় আছেন। এসআই হাক্কানী বিল্লাহ জানান, এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের কোনো লোকেশন পাওয়া যায়নি বা নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন, অপহরণ না করলে আমার ছেলের সঙ্গে আমাকে কথা বলিয়ে দিল কীভাবে।
নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। স্বজনদের ধারণা, পুকুরিয়ার চন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত ঝিনুক পোল্ট্রি ফার্মে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে কোনো একটি চক্র। শুক্রবার ও শনিবার চাঁদপুর বাজারে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে বলে জানান স্বজনরা। রিদয়াও তাদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে কিছু জানে না বলে দাবি করেছে।
এদিকে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও উঠেছে। আবদুর রশিদ জানান, দুটি মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে এবং টাকা না দিলে ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফোন করা ব্যক্তিরা নিজেদের কক্সবাজার থেকে কল করছে বলে দাবি করলেও, বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হকের মতে এটি প্রতারক চক্রের কাজ। ওসির দাবি, তারা ফেসবুকের খবর দেখে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং নম্বরগুলো যাচাই করে রংপুর ও ময়মনসিংহের ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে টাকা না দিলে ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। আবদুর রশিদ জানান, আমি তাদের বলেছি, আমরা গরিব মানুষ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর ফোন করলে তারা বলে, সঠিক সময়ে টাকা দিস নাই, তোর ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছি।
ঝিনুক পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন জানান, সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে শিক্ষার্থীরা তার খামারে এসেছিল, কিন্তু তারা চাকরিতে যোগ দেয়নি। ওসি রবিউল হক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা আগে সেই ফার্মে দুই দিন কাজ করেছিল এবং পরে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে আর ফেরেনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন