চুয়াডাঙ্গার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি আটক
মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিএসএফ সদস্যরা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৮-বিজিবি) পাল্টা গুলি ছুড়েছে এবং বর্তমানে ওই এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে, যখন হরিহরনগর সীমান্তের ৬১/১-এস মেইন পিলারের নিকট দিয়ে মনিরুলসহ সাতজন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। তখন ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টুঙ্গী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত পান। মনিরুলের সঙ্গে থাকা বাকি ছয়জন—রাশেদ (৩২), আনিছ (৩৫), সোহান (২৫), শাওন (২৬), মিন্টু (৩৮) এবং মশিয়ার (৪০)—পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। আহত মনিরুলকে বর্তমানে ভারতের কৃষ্ণনগর জেলার শান্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের সীমান্তে মেইন পিলারে ৬১/১-এস-এর নিকট এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্য চোরাকারবারি পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। মনিরুলের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন, কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যায় কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ পাওয়ার পরই স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারে। এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানিয়েছেন, তারা ঘটনার কথা শুনেছেন, তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাননি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮-বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, বিএসএফের গুলির শব্দ শুনে বিজিবির মেদিনীপুর ক্যাম্পের টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্ত ও জননিরাপত্তার স্বার্থে পাল্টা ফায়ার করে। বর্তমানে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন