|
|
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

হালদা নদীর তীরে ২৪৪টি বিদেশি উদ্ভিদ, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে শতাধিক প্রজাতি

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪০ এএম
২২ পঠিত
00:00
00:00
হালদা নদীর তীরে ২৪৪টি বিদেশি উদ্ভিদ, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে শতাধিক প্রজাতি

চট্টগ্রামের হালদা নদীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার এলাকার দুই তীরে পরিচালিত এক গবেষণায় ১ হাজার ২৯টি উদ্ভিদ প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৪টি বিদেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২৩টি উদ্ভিদ প্রজাতি বিপন্ন অবস্থায় আছে এবং আরও ১০০টি প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা 'ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান অপিনিয়ন' (ইকো) এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ এই গবেষণায় হালদার দুই তীরের উদ্ভিদবৈচিত্র্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষকদের দাবি, নদীটির উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত উদ্ভিদ নিয়ে এটিই প্রথম কোনো বিস্তারিত জরিপ।

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল জানান, শনাক্ত ১ হাজার ২৯ প্রজাতির মধ্যে ৭৬৫টি স্থানীয় এবং ২৪৪টি বিদেশি উদ্ভিদ। এর মধ্যে ২১২টি বড় বৃক্ষ, ১৩৩টি গুল্ম, ১৩৩টি লতা, ৫২২টি বীরুৎ ও ৯টি পরজীবী উদ্ভিদ রয়েছে। এ ছাড়া ৫১৭ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে লেইস্যা গর্জন ও পাখা ঢেকিয়ার মতো কিছু দুর্লভ প্রজাতির অস্তিত্ব মিলেছে, যেগুলোর আগের কোনো নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে গবেষণায় ৭২৯টি উদ্ভিদের প্রথম রেকর্ড পাওয়া গেছে।

নদীর নাজিরহাট সেতু থেকে নারায়ণহাটের আগ পর্যন্ত এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো উদ্ভিদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। কৃষিকাজ ও ফসল চাষাবাদের প্রসারের ফলে এসব প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। নদীতীরের পাহাড়ি এলাকায় ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি, সেগুন, জারুল, মেহগনি ও মিঞ্জিরিসের মতো বিদেশি গাছ লাগানোর প্রবণতা বেড়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, বিদেশি গাছের নিচে অনেক সময় অন্য উদ্ভিদ জন্মায় না, যা মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে যেতে বাধা দেয়। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের গাছ রোপণ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

পরিবেশের সুরক্ষায় দূষণও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণায় হালদা নদীর পানি, বায়ু ও মাটি দূষণের মোট ৫৭টি উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি উৎস সরাসরি নদীর পানিকে দূষিত করছে। এদিকে, নদীর উৎস নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন গবেষকরা। এতদিন রামগড়ের হাসুকপাড়াকে উৎস হিসেবে ধরা হলেও, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের গরুকাটা এলাকায় একটি বড় জলধারার সন্ধান মিলেছে, যা হালদার অন্যতম উৎস হতে পারে। এছাড়া মদুনাঘাট থেকে নাঙ্গলমোড়া পর্যন্ত কেওড়াগাছের উপস্থিতি মিলেছে, যা নদীর উজানে লবণাক্ত পানির প্রভাব বিস্তারের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

হালদা নদীর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধ, নদীতীরের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং কৃষি ক্ষেত্রে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই নদীর পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও দূষণের উৎসগুলো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →